ইমারতে শরিয়াহ হিন্দ এর উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী সর্বভারতীয় "ইমারত কনফারেন্স" অনুষ্ঠিত হল।

ইমারতে শরিয়াহ হিন্দ এর উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী সর্বভারতীয় "ইমারত কনফারেন্স" অনুষ্ঠিত হল।

উম্মাহ টাইমস, নয়াদিল্লি:

গত ৪ ও ৫ অক্টোবর ২০২৩, বুধবার ও বৃহস্পতিবার জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সারা দেশের বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামগনের উপস্থিতিতে ইমারতে শরিয়াহ হিন্দ এর উদ্যোগে "ইমারত কনফারেন্স" অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মূলত ভারতবর্ষে ইমারতে শরিয়াহ হিন্দ  প্রতিষ্ঠার  উদ্দেশ্য হল কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে মুসলিম সমাজে শরিয়াহ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য চেস্টা করা। দুদিনের কনফারেন্স শেষে ইমারতে শরিয়াহ হিন্দের পক্ষ থেকে সমস্ত  মুসলমানদের প্রতি চোদ্দ দফার একটি বিশেষ আবেদন প্রকাশ করা হয়েছে:


(1) তৌহিদ,রিসালত,নবুওয়াত,পরকাল এবং নবুওয়াতের সমাপ্তি প্রভৃতি মৌলিক বিশ্বাসের উপর অটল থাকুন এবং বিশ্বাস করুন যে পবিত্র কোরআন আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ গ্রন্থ।এটি সকল বিকৃতি ও পরিবর্তন এর উর্দ্ধে। আর কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী প্রতিটি আকীদা ও মতবাদ হল  পরিত্যাজ্য । আর ইসলামী শরিয়তের ওপর আমল ছাড়া পরকালের মুক্তির কোন পথ নেই।

(২) ইসলামের দৃষ্টিতে শরীয়তের ওপর আমল  করাও ইবাদত এবং হালাল খাওয়া ও হালাল রিজিক উপার্জন করাও ইবাদত। এরকমই ঐ সমস্ত ভালো কাজ যেটা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয় সেটাও ইবাদত । তাই ইসলামি ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হওয়া এবং অন্য মুসলমানদেরকে সেগুলোর পথ দেখানো প্রত্যেক মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য।

(৩) শরয়ী কারণ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে অযথা বিলম্ব করবেন না এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবহেলা করবেন না ।

(৪) বিয়ের অনুষ্ঠানে অনাড়ম্বরতার দিকটিকে প্রাধান্য দিন, মুসলমানদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও আর্থিক সংকটের মূলে অপব্যয়  ও বাড়াবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সর্বস্তরে অপব্যয় ও বাড়াবাড়ি থেকে  আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

(৫) যৌতুকের দাবি তা মৌখিক হোক বা না হোক ইসলামী শরীয়তে জায়েজ নেই । মুসলিম উম্মাহর আলেম ও নেতৃবৃন্দের কাছে যৌতুক দাবি করার যদি কোন কথা আসে তাহলে এই অশুভ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকৃত সংগ্রামে সকলের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

(৬) কোন শরয়ী কারণ ছাড়া তালাক দেওয়া জায়েজ নয়, বিশেষ করে তিন তালাক শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় তাই এটা পরিহার করা জরুরী।

(৭) উত্তরাধিকারে কন্যা ও বোন প্রভৃতির অংশ শরীয়তে নির্ধারিত রয়েছে ‌‌। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উপর কর্তব্য হল তাদের অধিকার শরীয়ত অনুযায়ী হকদারদের  দেওয়ার ব্যবস্থা করা।


(৮) ইসলাম নারীদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়েছে তাই নারীদের সম্পূর্ণরূপে পর্দা করা জরুরী।

(৯) সুদ এবং সব ধরনের জুয়া থেকে মুসলমানদের সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

(১০) মদ ও অন্যান্য নেশা জাতীয় সামগ্রী থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ নজর দিতে হবে।

(১১) ধর্মীয় শিক্ষা হল আকীদা, আদর্শ জীবনধারা ও সৎ কর্মপন্থা শিক্ষার সর্বোত্তম ও কার্যকরী মাধ্যম, তাই মুসলমানদের জন্য এটি একশো শতাংশ আবশ্যক। তাই আপনার সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং এটাকে খাদ্য,পানীয় ও বাসস্থানের  চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন।

(১২) ধর্মীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতা একটি জাতির পরিচয়ের মৌলিক ভূমিকা পালন করে,তাই মুসলমানদের কোনো অবস্থাতেই তাদের ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতা পরিত্যাগ করা উচিত নয় এবং তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত।

(১৩) জনসাধারণকে এই সম্পর্কে সচেতন করতে হবে যে পারস্পরিক মনোমালিন্য, বিশেষ করে সামাজিক ঝগড়া ও বিবাদের ক্ষেত্রে শরিয়া আদালত এর (মাহাকামায়ে শরিয়াহ) মাধ্যমে সমাধান করতে হবে এবং শরীয়তের  সিদ্ধান্তগুলি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে হবে এবং এই উদ্দেশ্যে মাহাকামায়ে শরিয়াহ সম্মেলন এর আয়োজন করতে হবে। বিশেষত জুমআর বক্তব্য এবং অন্যান্য সভায় এই সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

(১৪) যে সমস্ত এলাকায় এখনও মাহাকামায়ে শরিয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয়নি সেখানে ইমারতে শরিয়াহ হিন্দ এর নিয়মানুযায়ী মাহাকামায়ে শরিয়াহ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিদায়ে মিল্লাত হজরত মাওলানা আসআদ মাদানী স্মরণে।

উদয়পুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় : জমিয়ত উলামা।

উঠল চলতি বছরে হজের জন্য নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা । খুুুশির খবর চলতি বছরে হজ গমনেচ্ছুদের জন্য।

বিষ্ণুপুর আমরা করবো জয় এর উদ্যোগে রক্তদান শিবির।

‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ আইন ঠেকাতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ৫ সিদ্ধান্ত।