ফিদায়ে মিল্লাত হজরত মাওলানা আসআদ মাদানী স্মরণে।

ফিদায়ে মিল্লাত হজরত মাওলানা আসআদ মাদানী স্মরণে।
বিশেষ নিবন্ধ, উম্মাহ টাইমস :
৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে আলমে ইসলামের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র দিল্লির অ্যাপলো হাসপাতালে অস্তমিত । তাই আজও তাঁর অনুসারীরা শোকাহত , অনুতপ্ত ও মর্মাহত । সেই মহান ব্যক্তি আউলাদে রসুল ইলমে জ্ঞানের সাগর হজরত মওলানা সৈয়দ আসাদ মদনি ( রহঃ ) । ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু দিবসে এই মহান ব্যক্তির স্মৃতিচারণের জন্য এই বিশেষ নিবন্ধ ।
 হজরত ওলানা সৈয়দ আসাদ মাদানি (রহঃ) -র মৃত্যু সংবাদ শুনে সর্বপ্রথম অ্যাপলো হাসপাতালে ছুটে যান তৎকালীন ভারতের লালকৃষ্ণ আডবাণী শোকবার্তায় বলেন , "ভারত আজ এক দেশপ্রেমিককে  হারাল" । বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারতের রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবও তার শোকবার্তায় বলেন "ভারত আজ এক অঘোষিত রাষ্ট্রপতিকে হারাল" । পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী মওলানা ফজলুর রহমান মন্ত্রিসভার ৪০ জন সদস্যকে নিয়ে নামাজে জানাজায় এসেছিলেন এবং শোকবার্তায় বলেন  "আলমে ইসলামের এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়" । 
 জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রাক্তন সম্পাদক মওলানা সাধারণ আছরারুল হক কাসিমি শোকবার্তায় বলেন "ধর্মীয় , রাষ্ট্রীয় ও মানবিকতা সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন ময়দানে এবং দক্ষতার সঙ্গে সমাধানে সচেষ্ট থাকতেন" । ১৯৭৯ সালে মোরারজি দেশাই সরকারের বিরুদ্ধে দেশ ও জাতি বাঁচাও আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন । আন্দোলনকে বানচাল করতে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল । এতে শুধু দেশ নয় , আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল । ফলে বিভিন্ন দেশের মোট ৪০ জন রাষ্ট্রদূত একত্রিত হয়ে জমিয়ত দফতরে এসে আন্দোলন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন । জবাবে হজরত মদনি বলেন , শেয়ালের হাজার বছর জীবিত থাকার চেয়ে সিংহের মতো একমুহূর্ত থাকা শ্রেয় । ফলে ওই আন্দোলনে পিছপা না হয়ে ২৫০০ জমিয়ত কর্মীকে নিয়ে আন্দোলন আরম্ভ করেন এবং ২৫০ জন সিপিএম কর্মীও ওই আন্দোলনকে সমর্থন করে জেলবন্দি হয়েছিলেন । সিপিএম কর্মীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ভূপেশ গুপ্ত , আলম সিংহ ঠাকুর , সীতারাম দুয়াইদি । আন্দোলনের ফলস্বরূপ দশদিনের মধ্যে মোরারজি সরকারের পতন ঘটে । তিহার জেলে জমিয়তের কর্মীদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তি হজরত মওলানা আহমদ আলি , মওলানা আব্দুল হক উল্লেখযোগ্য । কনিষ্ঠদের মধ্যে আমার সঙ্গে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীও ছিলেন যিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী । প্রতিদিন ভোরে জেলের ভেতর আমাদের ব্যায়াম প্রশিক্ষণ দিতেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মিলিটারি জেনারেল শাহনওয়াজ খান সাহেব । 
 বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর শিলচরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হজরত মদনি সাহেব বলেন , রাওজি আওর কুছ দিন গদি মে রহে তো কংগ্রেস আওর হিন্দুস্থান কোলে কর ডুবেগা । 
 কোলকাতার কংগ্রেস সভায় ইন্দিরাজির সামনে তিনি প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের নীতি - বিচ্যুতি আমাকে এ দলীয় সেবা থেকে বিরত রাখবে ।
 গুণিজনের কাছে গুণীর আদর সর্বকালে ছিল ও থাকবে । ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী অটলবিহারী দেশের জাতীয় পরিস্থিতিতে হজরত মদনির কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন । এমনকী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের আগে আইটিও জমিয়ত দফতরে গিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছিলেন । 
 দেশে - বিদেশে অসংখ্য মসজিদের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি । কিন্তু শুধু লন্ডনের মাটিতে ১৩ টি মসজিদের উদ্বোধন করেছেন জুম্মার নামাজের মাধ্যমে , যা কম কথা নয় । আমার ব্যক্তিগত জীবনে একাধারে প্রায় ৪০ বছর যাবৎ দেশে - বিদেশে আসাদ মদনির সফরসঙ্গী হিসেবে সেবার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি । ফরজ নামাজ আজান - একামত ছাড়া পড়তে দেখিনি এবং নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন । নামাজ এমন ধীর - স্থিরভাবে আদায় করতেন , দেখে মনে হতো তাঁর কোনও ব্যস্ততা নেই । অথচ একইদিনে কয়েকটি প্রোগ্রাম থাকত । প্রতিবছর রমজানে এতেকাফ ও কোরান খতম বাদ পড়েনি । হজরত মাদানি (রহঃ) জীবনে কম করেও ৪০ বার হজ করেছেন এবং অসংখ্যবার উমরাহ করেছেন । আল্লাহ যেন তাঁর এই দ্বীনি মেহনতকে কবুল আমাদের অনুকরণের তৌফিক দান করেন। 
লেখক : মাওলানা মুজির উদ্দিন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

উদয়পুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় : জমিয়ত উলামা।

উঠল চলতি বছরে হজের জন্য নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা । খুুুশির খবর চলতি বছরে হজ গমনেচ্ছুদের জন্য।

বিষ্ণুপুর আমরা করবো জয় এর উদ্যোগে রক্তদান শিবির।

‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ আইন ঠেকাতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ৫ সিদ্ধান্ত।