"তানজিমুল মাদারিস লিল বানাত" এর রাজ্য সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত।
"তানজিমুল মাদারিস" এর রাজ্য সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত।
উম্মাহ টাইমস, আর এ মন্ডল :
উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতের কাজিপাড়া হজরত সুমাইয়া গার্লস মাদ্রাসায় 'তানজিমুল মাদারিস লিল বানাত' (পঃবঃ রাজ্য বালিকা মাদ্রাসা সমন্বয় পরিষদ) এর রাজ্য সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হল আজ ২৪ শে জুলাই সোমবার সকাল দশটা থেকে বিকাল পর্যন্ত।
এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা বিশিষ্ট আলীমে দ্বীন মওলানা আবুল হাসান সাহেব, রাজ্য সম্পাদক মুফতি সিরাজুল ইসলাম, রাজ্য কনভেনর মুফতি মুজিবর রহমান, মুফতি জালাল উদ্দিন, মুফতি আহমাদ, মওলানা সাইফুদ্দিন নাদবী, মাওলানা নাসিরউদ্দিন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
এই সভায় মূলত এই সংগঠনের দ্বারা পরিচালিত মাদরাসাগুলির সম্মুখীন বিভিন্ন সমস্যার কথা আলোচনা ও সমাধানের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়।
এই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংগঠনের বাৎসরিক হিসাব, বিগত শিক্ষাবর্ষের সার্বিক পর্যালোচনা, রাজ্যব্যাপী বাৎসরিক পরীক্ষা, সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকা সমস্ত মাদ্রাসাগুলির সুরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নতি, বার্ষিক রিপোর্ট সম্বলিত পুস্তিকা প্রকাশ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মুফতি সিরাজুল ইসলাম।
উল্লেখ্য যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষার চাহিদা বাড়ছে । স্বভাবতই আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন ও যুগোপযোগী পাঠক্রমের সাথে দ্বীনি শিক্ষার নতুন পরিবেশ তৈরির তাগিদ বাড়ছে। এক্ষেত্রে অনেক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সফল হয়েছেন। তাঁরা একই ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের আলীমা (কওমি উচ্চতর ডিগ্রি) বানানোর পাশাপাশি তাদের মাধ্যমিক মানের বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্য করে তুলছেন। ফলত রাজ্যে মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার যে জোয়ার এসেছে তার উত্তরোত্তর সাফল্যে এই সংগঠনের অবদান অনস্বীকার্য।
প্রসঙ্গত প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে রাজ্যে বালিকাদের দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার প্রচলন পূর্বে থাকলেও ২০০৯ সালে থেকে সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি মওলানা নাজমুল হকের নেতৃত্বে নতুনভাবে এই সংগঠনটি রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় একশোটির অধিক আবাসিক বালিকা মাদরাসার পরিকাঠামো, পঠনপাঠন, পাঠক্রম, গুনগতমান , তালিমের পাশাপাশি তারবিয়াতের মানোন্নয়ন ও আর্থিক সহযোগিতামূলক কাজকর্ম করে আসছে এই সংগঠন। এদিনের সভায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে সর্বমোট আটত্রিশটি মাদ্রাসার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সকাল দশটা থেকে বিকাল পর্যন্ত পর্যন্ত দুই বৈঠকে অনুষ্ঠিত এই সভার মুখ্য আয়োজক ছিলেন মাওলানা নাসিরউদ্দিন। দুয়ার মাধ্যমে সভা সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন