জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির অধিবেশন ও ৩৪ তম সর্বভারতীয় মহাঅধিবেশন।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির অধিবেশন ও ৩৪ তম সর্বভারতীয় মহাঅধিবেশন।
উম্মাহ টাইমস্:
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির অধিবেশন ও ৩৪ তম সর্বভারতীয় মহাঅধিবেশন ৯,১০,১১ ও ১২ই ফেব্রুয়ারী ৪দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মজলিসে মুনতাযিমার যৌথ অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার সভাপতি জনাব মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব দৃঢ়তার সাথে বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় সর্বভারতীয় সভাপতি জনাব মাওলানা মাহমুদ আসআ’দ মাদানী সাহেব কুড়ি বছরের ঊর্ধ্বকালীন সময় ধরে সর্বভারতীয় মহাসচিবের পদে বহাল থেকে সংগঠনগতভাবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে জমিয়তের সর্বস্তরের কমিটি তাঁকে সর্বভারতীয় সভাপতি পদে মনোনীত করেছে। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাকে যে প্রস্তাবের সমর্থনে বলতে দেওয়া হয়েছে সেপ্রসঙ্গে বলি, সাম্প্রদায়িক শক্তির কিছু কিছু নেতা বলছেন যে তাঁরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করবেন। তাঁরা জেনে রাখুন, ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন ধরে ডঃ আম্বেদকরের নেতৃত্বে ভারতবর্ষের সংবিধান রচিত হয়েছে। সংবিধান রচনা কমিটিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের দু’জন স্তম্ভ ছিলেন- একজন হলেন, মাওলানা হিফজুর রহমান (রহঃ) ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (রহঃ); যাঁদের প্রত্যক্ষ অবদানে ভারতবর্ষের সংবিধান সেকুলার রূপ পেয়েছে। আমি যতদূর জেনেছি আরএসএস তথা বিজেপির সংবিধান রচনায় কোনো ভূমিকা ছিল না। একইভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএস ব্রিটিশের দালালি করেছে, তাদেরকে সাহায্য করেছে। এজন্য প্রকৃতপক্ষে দেশপ্রেম তাদের অন্তরে নেই। যদি থাকত তাহলে দেশকে, দেশবাসীকে তারা ভালোবাসত। এটা দিবালোকের ন্যায় সত্য। উপস্থিত সদস্যগণ এই বক্তব্য শুনে হর্ষধ্বনি দেন। তিনি বলেন, যদি আমাদের মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়, নামায, রোজা, হজ্ব, জাকাত প্রভৃতি ধর্মীয় আদর্শের উপর জুলুম কেউ করতে চায়, জমিয়তের এই হাসিমুখের চেহারা কোন রণমূর্তির আকার ধারণ করবে তা সময় বলবে।
তিনি আরও বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ একশ’ বছরের সুপ্রাচীন সংগঠন। কোনও ব্যক্তি একশ’ বছর বেঁচে থাকলে তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যান। কিন্তু জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ যুবকের ন্যায় ক্ষিপ্রতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। জমিয়তের পূর্বসূরী আল্লাহভীরু ব্যক্তিত্বদের অবদানের জন্যই এমনটা সম্ভবপর হয়েছে। হযরত মাওলানা আসআ’দ মাদানী সাহেব (রহঃ) এরাজ্যে ৪০ বছর ধরে বারংবার পদার্পণ করে এরাজ্যের জমিয়ত নেতৃত্বকে তৈরি করেছেন।এরাজ্যে জমিয়ত অত্যন্ত জনপ্রিয়; সব থানা জমিয়তেকে চেনে, জানে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার ১০ লাখ সদস্য, ৫০ লাখ সমর্থক রয়েছেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩-৪ হাজার প্রতিনিধি উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
Source: কওমি আওয়াজ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন