জমিয়তে উলামা সর্বপ্রথম দেশকে স্বাধীন করার ডাক দেয় : শিশির বসু (নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভ্রাতুষ্পুত্র)

জমিয়তে উলামা সর্বপ্রথম দেশকে স্বাধীন করার ডাক দেয় : শিশির বসু (নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ভ্রাতুষ্পুত্র)


বিশেষ প্রতিবেদন, উম্মাহ টাইমস্:

আমি দিল্লীতে দেখেছি কিছু সংকীর্ণতাবাদী লোক কাজের সুবিধা পেয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দ মত দেশের ইতিহাসের মোড় ঘুড়িয়ে দিচ্ছে। দুই শত বৎসরের জাতীয়স্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ও সংগঠনের স্মরনীয় ইতিহাস রচনা করার জন্য ফ্রীডম মেমোরিয়াল' নামে একটি জাতীয় সংঘ স্থাপন করা হয়েছে। এই সংস্থার মাধ্যমে যে ইতিহাস রচিত হচ্ছে তাতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নাম নেই। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও ন্যাশন্যাল আর্মির ও নাম নেই। অথচ আপনাদের পূর্বসূরীরাই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। জালিওয়ান ওয়ালা বাগের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ও কংগ্রেস পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলেনি। কিন্তু জমিয়তে উলমায় হিন্দ ১৯১৯ খ্রীষ্টাব্দে কংগ্রেসের দশ বৎসর পূর্বে পূর্ন স্বাধীনতাই তাদের লক্ষ্য বলে সংগ্রামের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। সাম্প্রদায়িক ভাগ বাটোয়ারায় কংগ্রেস নীতি নির্ধারন করতে না পারলে ও জমিয়ত তা করতে পেরেছিল।

১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দের নির্বাচনের পর প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসনের ব্যাপারে মুসলিম লীগের জন্ম হয়। এভাবে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বিষ বৃক্ষে পরিণত হল। ইংরেজ সরকার অসন্তুষ্ট হবে মনে করে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশই আগষ্ট আন্দোলন করেননি। এমনকি জওহরলাল নেহেরুর মত নেতা আন্দোলন বানচাল করার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। গান্ধিজি দৃঢ় হওয়ায় ভারত ছাড় আন্দোলন সফল হয়েছিল; আর তা হয়েছিল নেতাজির প্রভাবেই। মনে রাখা দরকার জমিয়তে উলমায়ে হিন্দু কিন্তু তার আগেই 'ভারত ছাড় আন্দোলন' এর ডাক দিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় জমিয়তের বহু নেতা ও কর্মী কারা বরণ করেছিলেন।”

“নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গোপনে ইউরোপ যাত্রা সম্পর্কে আমি অনেক তথ্য জানি। আমি গোপনে তাকে গাড়িতে তুলে দিতে গিয়েছিলাম। সেই গোপন যাত্রা কালে তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমি জমিয়তে উলামার পূর্বসুরিদের নির্দেশ অনুযায়ী যাচ্ছি। আপনারা জেনে রাখুন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এঁদের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিলেন।”

দেশ ভাগের ব্যাপারে আমি একজন হিন্দু হয়েও পরিস্কার বলে দিতে চাই যে, ভারত ভাগের জন্য মুসলমান দায়ী নয়। এমন কি ভারত ভাগে জিন্না সাহেবকে ঠেলে দেওয়ার জন্য কংগ্রেসই দায়ি। ক্যাবিনেট মিশন নিয়ে নেহেরু যা কাণ্ডকারখানা করেছিলেন তাতে জিন্না সাহেব দেশ ভাগে অনঢ় হয়ে বসলেন। ভারত ভাগের প্রস্তাব প্রথম এসেছিল হিন্দু মহাসভা থেকে। কিছু দিন পর কংগ্রেস তা গ্রহণ করে । ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি পাঞ্জাব ভাগে সিদ্ধান্ত নিলে আমার বাবা শরৎ বসু কংগ্রেস থেকে পদ ত্যাগ করেন। তিনি বলেন এর অর্থই হচ্ছে ভারত ভাগ। তিনি বাংলায় হিন্দু মুসলিম মিলে সংহতি ভিত্তিক বাংলার ঐক্য প্রতিষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিলেন । এ-ব্যাপারে তিনি গান্ধীজী ও জিন্নার সঙ্গে মত বিনিময় করেছিলেন। বাংলা বিভক্ত হবে না বলে গান্ধীজী আশ্বাষ দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ আলি জিন্না বলেছিলেন যে, যদি আপনারা হিন্দু মুসলমান মিলে মিশে এক হয়ে থাকতে পারেন, তাহলে আমি বাংলাকে পাকিস্থান থেকে বাদ দিয়ে দেব। এই আমার বাবা প্রকাশ করেন কিন্তু কংগ্রেসের চাপে ভারত পাকিস্তান বাদে তৃতীয় একটি দেশ ঐক্য বাংলা হিসাবে ভোট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই লর্ড মাউন্ট ব্যাটনকে বাংলা ভাগের জন্য স্থায়ী করা যায়না।
হিন্দু, শিখ, মুসলিম ধর্ম নির্বিশেষে হিন্দুস্তান মুলুকের ভিত্তিতেই উপলব্ধি করার বিষয়।
প্রথম থেকেই মওলানা মাদানী বলে এসেছেন যে, দেশের ভিত্তিতে জাতি গড়ে ওঠে ও জাতির মধ্যে নানা ধর্মাবলম্বী থাকে এবং নিজের ধর্মের প্রতি অনুগত থাকো ও সেই সঙ্গে নিজের দেশের প্রতি অনুগত থাকো ।
কিন্তু মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানীর প্রজ্ঞার কথা রাজনীতিবিদরা শোনেননি। আর ঐতিহাসিকরাও সাম্প্রদায়িক বিবাদের বৃত্তান্ত প্রনয়নেই আগ্রহী, সাংস্কৃতিক সংহতির প্রসঙ্গে উদাসীন। এক্ষেত্রে ভারতের জাতীয়তাবাদের স্বরূপ কি এই প্রশ্নে জমিয়াত -এ- উলামার ভূমিকার ও মওলানা মাদানী কথিত মুত্তাহিদা কওমিয়াত এর তাৎপর্য অনুধাবন করা প্রত্যেক ভারতীয়র কর্ত্তব্য।”

*(প্রসঙ্গ : সাম্প্রদায়িকতা পৃষ্ঠা- ১৩৪ ১৩৫ ১৩৯)*

Courtesy:- সবার ইনসাফ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিদায়ে মিল্লাত হজরত মাওলানা আসআদ মাদানী স্মরণে।

উদয়পুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় : জমিয়ত উলামা।

উঠল চলতি বছরে হজের জন্য নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা । খুুুশির খবর চলতি বছরে হজ গমনেচ্ছুদের জন্য।

বিষ্ণুপুর আমরা করবো জয় এর উদ্যোগে রক্তদান শিবির।

‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ আইন ঠেকাতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ৫ সিদ্ধান্ত।