মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বারবার ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টে জমিয়ত।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বারবার ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টে জমিয়ত।
জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি বলেছেন যে অপরাধ ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের ক্ষেত্রে সরকারের নীরব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দেশে আজ এই সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদেশের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জানমালের সম্মান, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী যৌথ সংগ্রামের প্রয়োজন রয়েছে।
উম্মাহ টাইমস,আর.এ.মন্ডল : জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং নবী সা . ও ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বন্ধে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয় । রিট পিটিশনে স্বাক্ষর করেন জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মেহমুদ মাদানি - সহ কয়েকজন সমাজকর্মী । শীর্ষ আদালতে আবেদনে বলা হয়েছে , দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম মুসলমান ও পয়গম্বর নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে । এমনকী গণহত্যার হুংকার দেওয়া হচ্ছে । সরকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বিকার । এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করার ফলে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর হয়রানি শুরু হয়েছে । এই হয়রানি আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে যদি অবিলম্বে এই বিদ্বেষ প্রচার বন্ধ না হয় । আবেদনে আরও বলা হয়েছে , যেহেতু সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে এবং কোথাও এফআইআর দায়ের হলেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অথচ বিদ্বেষ প্রচারকারীরা প্রকাশ্যেই উসকানি দিয়ে যাচ্ছে , তাই আদালত অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিক এবং একটি কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করে বিদ্বেষ ভাষণের গভীরতা উপলব্ধি করুক । ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্বেষ প্রচার এবং তার প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত হিংসার তালিকাও পেশ করা হয়েছে জমিয়তের এই আবেদনে ৷ সেই সঙ্গে গুরগাঁওয়ে নামায বন্ধের জন্য ধারাবাহিক প্ররোচনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে ।
আবেদনের মূল তিনটি বিষয়:
১) তেহসিন পুনাওয়ালা কেস 2018 সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের উল্লেখ করে, আবেদন করা হয়েছে যে মাননীয় হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা সহ নবী (সাঃ) বিষয়ে অবমাননার মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলির বিষয়ে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন চাইতে হবে। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মানকে টার্গেট করেছে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
২) দেশে ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ নিরসনের জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করতে হবে।
৩) বিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং তদন্ত আদালতের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।
উল্লেখ্য , হরিদ্বারে বিদ্বেষ ভাষণ ও গণহত্যার হুংকার দেওয়ার ঘটনা নিয়ে জমিয়ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী , জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে লিখিত আবেদনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় । অবস্থা ক্রমশই উত্তেজনাকর হয়ে পড়ায় জমিয়ত সুরাহার জন্য সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হল ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন