ক্বারী উসমান মনসুরপুরীর সভাপতিত্বের সময়কাল ছিল জমিয়তের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ।

হযরত মাওলানা ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরীর সভাপতিত্বের সময়কাল ছিল জমিয়তের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ।
 নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় তাঁর জীবন,কর্ম ও সেবার ওপর সপ্তাহিক আল জমিয়ত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা 'আমির-উল-হিন্দ রাবে'- প্রকাশিত হয়েছে এবং তার নামে মুজাহিদে খতম নবুয়ত পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে ।

উম্মাহ টাইমস, আর.এ.মন্ডল:
 গতকাল ১৭ ই ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সদর দফতরের মাদানী হলে হযরত মাওলানা ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী (রহ.)-এর জীবন,কর্ম ও সেবার ওপর সাপ্তাহিক আল জমিয়ত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা 'আমির-উল-হিন্দ-রাবে'- প্রকাশিত হয় ।এই অনুষ্ঠানে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানীর আমন্ত্রণে দেশের বিশিষ্ট আলিম ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।
 এদিন পুস্তক প্রকাশ অনুষ্ঠানের সাথে একটি বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন দারুল উলূম দেওবন্দের আচার্য ও শায়খুল-হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসিম নোমানী সাহেব। এছাড়াও দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আজমী, মাওলানা আব্দুল আলিম ফারুকী, মাওলানা রহমতুল্লাহ কাশ্মীরী, মাওলানা আশহাদ রশিদী, নায়েবে আমিরুল হিন্দ মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরী ও অধ্যাপক আখতার ওয়াসি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেন, ক্বারী মুহাম্মদ সৈয়দ উসমান মনসুরপুরি (রহঃ) এর ব্যক্তিত্ব তাঁর শিক্ষা, ধর্মপালন, সামাজিক এবংজাতীয় নেতৃত্ব ও সেবার অগণিত গুনের আধার ছিল। তার জীবনের প্রতিটি দিকই দ্বীন প্রেমীদের জন্য দিকনির্দেশনা ও সাহায্যের উৎস।তিনি দারুল উলূমের অন্যতম শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হযরত মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানী সাহেব বলেন যে ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান সাহেব ছিলেন উত্তম নৈতিকতার আদর্শ, বিশুদ্ধ চরিত্র ও সফল শিক্ষক। তাঁর বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য দিক যে তিনি ছিল আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য হযরত শায়খুল-হাদীছ মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাঁর নির্দেশে হযরত মাওলানা সৈয়দ আসাদ মাদানীর সঙ্গলাভ করে আধ্যাত্মিকতার উচ্চতম সফলতা অর্জন করেন। 
হযরত মাওলানা নেমাতুল্লাহ আযমী তার বক্তব্যে বলেন, হাদিসের আলোকে হযরত ক্বারী সাহেবের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্টতা বর্ণনা করা তাঁর জান্নাতী হওয়ার প্রমাণ। তিনি যে অতি নম্র, খোদাভীরু ও ন্যায়পরায়ন ব্যক্তি ছিলেন, ক্বারী সাহেবের সাথে কাজ করেছেন এমন সুধীজনেরাই আজ তার সাক্ষ্য দেবেন।

জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের জাতীয় সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি তাঁর বিশেষ দ্বীনি কর্ম “তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত" এর ওপর আলোকপাত করে “মুজাহিদে খতম নবুওয়ত” এওয়ার্ড ঘোষণা করেন। এটি মূলত তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার উপর উক্ত অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে । প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু শীঘ্রই ঘোষিত হবে । মাওলানা মাদানী বলেন যে তিনি আমার শিক্ষক এবং একান্ত পরামর্শদাতা ছিলেন। , তিনি তার জীবনে যে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তা তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালন করে গেছেন। তিনি ২০০৮ সালে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ তৎকালীন সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন শুরু করে যার ইতিবাচক প্রভাব আজও বর্তমান।
  তাঁর সুপুত্র তথা বর্তমান নায়েবে আমীরুল হিন্দ হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ সালমান মনসুরপুরী তাঁর বক্তৃতায় তাঁর সম্মানীয় পিতার জীবনে চারটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করেন এবং তাঁর পিতার স্মরণে আল জমিয়ত পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের জন্য জমিয়তের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

 সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসমী তার ভাষণে বলেন যে তিনি ২০০৮ সালে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের অষ্টম সভাপতি ছিলেন। তিনি একাধারে সর্বমোট ৩১ বছর ২ মাস ৫১ দিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন ।
 এছাড়াও এদিনের সভায় জমিয়ত উলামা আসামের সভাপতি মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক দিল্লি, জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সেক্রেটারি মাওলানা নিয়াজ আহমদ ফারুকী, দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ সালমান বিজনোরি,দারুল উলূম দেওবন্দের নাজিমে তালিমাত মাওলানা মুফতি খুরশীদ আনোয়ার গয়াবী , মাওলানা মোহাম্মদ রশিদ গোরখপুরী,মাওলানা শামশাদ রাহমানী আমিরে শরীয়ত বিহার ও ঝাড়খন্ড উড়িষ্যা, মাওলানা ক্বারী শওকত আলী , মাওলানা শাহ আলম দারুল উলূম দেওবন্দ, মাওলানা মুনিরুদ্দিন দারুল উলূম দেওবন্দ, মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ মারুফি দারুল উলূম দেওবন্দ, মাওলানা শামিম আহমেদ,মাওলানা আব্দুল হামিদ নোমানী, মাওলানা শামীম আহমদ আমীর শরীয়ত দিল্লী, মাওলানা মুফতি জাকাওয়াত হুসাইন নায়েবে আমিরে শরীয়ত দিল্লী, পঃবঃ রাজ্য জমিয়ত সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী,মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ নাঈম, মাওলানা মোহাম্মদ সালেম,অ্যাডভোকেট সৌদ আহমেদ , মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম , সৈয়দ মোহাম্মদ রফে, মাওলানা ইয়াহহিয়া করিমি প্রমুখ আলিমে দ্বীন সহ বিপুল সংখ্যক জ্ঞানীগুণী ও বুদ্ধিজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফফান মনসুরপুরী।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিদায়ে মিল্লাত হজরত মাওলানা আসআদ মাদানী স্মরণে।

উদয়পুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় : জমিয়ত উলামা।

উঠল চলতি বছরে হজের জন্য নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা । খুুুশির খবর চলতি বছরে হজ গমনেচ্ছুদের জন্য।

বিষ্ণুপুর আমরা করবো জয় এর উদ্যোগে রক্তদান শিবির।

‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ আইন ঠেকাতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ৫ সিদ্ধান্ত।