ত্রিপুরায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ,দোকানপাট এবং বাড়িগুলি পুনর্নির্মাণ করবে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ।
ত্রিপুরায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ,দোকানপাট এবং বাড়িগুলি পুনর্নির্মাণ করবে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ।
ত্রিপুরায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদ, দোকানপাট এবং বাড়িগুলি পুনর্নির্মাণ করা হবে: জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ।
আজ জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসমির নেতৃত্বে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিনিধি দল ত্রিপুরায় পৌঁছেছে এবং তাঁরা দাঙ্গা কবলিত এলাকা সফরে রয়েছেন। প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও মুসলিম বসতিগুলি পরিদর্শন করে প্রকৃত সত্য বের করার জন্য তাদের প্রমাণ্য তথ্য সংগ্রহ করছেন। কারণ সম্প্রতি ত্রিপুরার ডিজিপি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কাল্পনিক বলে অভিহিত করেছেন। তাই, জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রতিনিধি দল প্রথমে সিপাহীজালা জেলায় পরিদর্শন করে, যা রাজধানী আগরতলা থেকে প্রায় 30 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত 23 শে অক্টোবর, দুর্বৃত্তরা রাত 10 টার দিকে মসজিদে আগুন দেয় এবং এটি টানা নয় দিন অব্যাহত ছিল।
প্রতিনিধি দল এখানে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জেনেছেন যে এখানে ৪৫ টি মুসলিম বাড়ি এবং ২০০ টি বাড়ি অমুসলিমদের। তদুপরি এখানে হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য রয়েছে। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী বাইরে থেকে এসে মসজিদ পবিত্রতা নস্ট করে পারস্পরিক ঐক্য নষ্ট করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের মহাসচিব মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসমি আক্রান্তদের ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে জীবনযাপন করতে আহ্বান জানান ।তিনি আরও বলেন যে এখানকার যে সমস্ত মসজিদ, দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলি জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ পুনর্নির্মাণ করবে। পরে প্রতিনিধি দল আগরতলার কৃষ্ণ নগর মসজিদে পৌঁছান। সেখানে দাঙ্গাকারীরা দুই দিন নামাজের জন্য আযান দিতে দেয়নি এবং মসজিদের জানালার কাঁচ ভেঙে দেয়।এরপর তাঁরা আগরতলার চন্দ্র মসজিদও পরিদর্শন করেন। এখন পর্যন্ত দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা সম্ভবপর হয়নি। সেখানে পুলিশ প্রশাসনের সম্পূর্ন অনুমতি নিয়ে পরিদর্শন করা হবে।
ত্রিপুরার পরিস্থিতি এবং সেখানে ডিজিপি কর্তৃক মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে 'ভুয়া খবর' বলে অভিহিত করার ভিত্তিতে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেছেন যে "জমিয়ত গুজবে বিশ্বাস করে না,এই পরিস্থিতিতে আমরা ত্রিপুরায় একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি পাঠিয়েছি, যারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবে"। মাওলানা মাদানি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে ত্রিপুরায় একটি মিছিলে প্রিয় নবীর নামে কটুক্তি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সরকার এখনও কেন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি এবং কেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ?।
মাওলানা মাদানী স্পষ্ট করে বলেছেন যে একজন মুসলমান সব কষ্ট ও কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু সে তার নবীর অপমান কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। অবিলম্বে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পারস্পরিক সহনশীলতা রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের নমনীয় হওয়া উচিত নয়।এটি শুধু মুসলমানদের অনুভূতির বিষয় নয়, বরং দেশের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় এবং এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত। মাওলানা মাদানী ত্রিপুরার জনগণকে ভয়, সন্ত্রাস ও হতাশার শিকার না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন আমরা আস্থাশীল যে জাতিধর্ম নির্বিশেষে দেশের ন্যায়পরায়ণ ও সজাগ শ্রেণী এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে আসবেন।
এদিন আগরতলায় জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের সচিব মাওলানা হাকিমুদ্দীন সাহেব কাসমী, মাওলানা গায়্যুর আহমদ কাসমী, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াসিন,ত্রিপুরা রাজ্য সভাপতি মুফতি আবদুল মুমিন, মাওলানা সিরাজুদ্দিন আহমেদ, মাওলানা জাকির হুসাইন, মাওলানা কামাল, মাওলানা আনিস-উর-রহমান প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন